ফেনী সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং হিজাব নিয়ে কটূক্তিসহ নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগে আলোচিত শিক্ষক বিপ্লব কুমার শীলকে রাঙামাটি সরকারি কলেজে বদলি ও পদোন্নতির আদেশ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা কলেজ অধ্যক্ষ নাসিমুল হকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ফেনী সরকারি কলেজে কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক বিপ্লব কুমার শীলের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অশোভন মন্তব্য, নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা এবং হিজাব নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উত্থাপন করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজ প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শাস্তির পরিবর্তে অভিযুক্ত শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে, যা তাদের কাছে হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।
স্মারকলিপি প্রদানকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে শরিফুল ইসলাম শাকিল অধ্যক্ষ ও উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “রাঙামাটি সরকারি কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। ফেনীতে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সামান্য অংশও যদি এখানে ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। আমরা এমন একজন শিক্ষককে এই কলেজে যোগদান করতে দিতে চাই না। অভিযুক্ত শিক্ষককে যোগদান করানো হলে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।”
এ সময় রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনগুলোর নেতারা অভিযুক্ত শিক্ষককে কলেজে যোগদান না করানোর দাবি জানান।
স্মারকলিপি প্রদানকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি গণ-অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ওয়াহিদুজ্জামান রোমান, রাঙামাটি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ওমর মোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শাকিল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর শাহ, রাঙামাটি জেলা ছাত্র-আধিকার পরিষদের সভাপতি ইমাম হোসেন ইমু, জান্নাতুল ফেরদৌস, মিজানুর রহমানসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, ফেনী সরকারি কলেজে থাকাকালীন এক শিক্ষার্থীর হিজাব নিয়ে কটূক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। পরে একাধিক শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ঘটনায় ফেনীতে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালিত হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা।


















