রাঙামাটিতে খোলা বাজারে (ওএমএস) স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রয় কার্যক্রম মনিটরিং করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। এসময় নিম্নআয়ের মানুষ ও উপকারভোগীরা ওএমএস কার্যক্রমে চাল ও আটার বরাদ্দ বৃদ্ধি করার দাবি জানান।
আজ রোববার (০৮ মার্চ) সকালে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত ওএমএস কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এসময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দ্রুপদ চাকমা, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহন চান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল মিয়াসহ মোট ১২ জন ওএমএস ডিলারের কার্যক্রম তদারকি করা হয়।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা ডিলারের মাধ্যমে বিক্রয় করছে। প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে নির্ধারিত দিনে ২০০ জনের জন্য ১ হাজার কেজি চাল ও ১ হাজার কেজি আটা বরাদ্দ থাকে। বিক্রয় কেন্দ্রে জনপ্রতি ৫ কেজি চাল ১৫০ টাকা এবং ৫ কেজি আটা ১২০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। অথ্যাৎ প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চলমান থাকে।
ওএমএস থেকে চাল ও আটা কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, সরকারের এই উদ্যোগে তারা সন্তুষ্ট। স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা পাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হচ্ছেন। তবে বরাদ্দের তুলনায় ভোক্তা বেশি হওয়ায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে চাল ও আটা পাচ্ছেন না।
ক্রেতাদের দাবি, প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হলে আরও বেশি মানুষ ক্রয় করতে পারবে। বর্তমানে ২০০ জনের জন্য যে পরিমাণ চাল ও আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা এলাকার চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান তারা। ফলে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হন। তাই নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে ওএমএস কার্যক্রমে চাল ও আটার বরাদ্দ বৃদ্ধি করার দাবি জানান তারা।
মনিটরিং শেষে রাঙামাটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম মাহমুদ সাগর সাংবাদিকদের বলেন, ওএমএস কার্যক্রম তদারকি করা আমাদের নিয়মিত কাজের অংশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার অংশ হিসেবে আমরা মনিটরিং জোরদার করেছি। আজকের পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভোক্তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চাল ও আটা পাচ্ছেন। তবে এই সুবিধা বর্তমানে ২০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কারণ প্রতি পয়েন্টে ২০০ জনের জন্য ১ হাজার কেজি চাল ও ১ হাজার কেজি আটা বরাদ্দ রয়েছে। রাঙামাটি পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বরাদ্দের তুলনায় ভোক্তাদের চাহিদা অনেক বেশি থাকার বিষটি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষে জানানো হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তা মজিদ রহমান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ শেখ এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম মাহমুদ সাগর। এছাড়াও স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

















