এবার পুনর্গঠিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হয়েছেন সায়রা চন্দ্রা চাকমা। আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার পরিচালনার। আর এরপরেই গতকাল নিজের ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন রাঙামাটি জেলার শিক্ষার মান উন্নয়নে তাঁর বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি।
পাহাড়ের খবরে সায়রা চন্দ্রা চাকমার সেই পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো- রাঙ্গামাটি জেলার শিক্ষার মান উন্নয়নের দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ। পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
আমার লক্ষ্য হবে রাঙ্গামাটির প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সমান সুযোগ পায়। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া।
শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, নিয়মিত পাঠদান, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে চাই।
আমি বিশ্বাস করি, একটি জেলার প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেই জেলার তরুণ প্রজন্ম শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠে। তাই রাঙ্গামাটির শিক্ষার মান উন্নয়নকে শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হিসেবে দেখতে চাই।
সবার সহযোগিতা, মতামত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এমন একটি রাঙ্গামাটি গড়ে তুলতে চাই—যেখানে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীও শহরের একজন শিক্ষার্থীর মতো সমান সুযোগ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যেতে পারে।
এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা , আন্তরিকতা , দোয়া আশীর্বাদ কামনা করছি❤️🇧🇩


















