মঙ্গলবার , ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

দীঘিনালায় ২৫ ত্রিপুরা পরিবারের সুপেয় পানির সংকট দূর করল আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

প্রতিবেদক
করিম শাহ, রামগড়, খাগড়াছড়ি
সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৩:১৮ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম লম্বাছড়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে থাকা ২৫টি ত্রিপুরা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে স্থাপন করা হয়েছে গভীর নলকূপ। এর ফলে দীর্ঘদিন পাহাড়ি ঝিরি ও কুয়ার পানির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।

সোমবার সকালে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাছড়া গ্রামে স্থাপিত গভীর নলকূপটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয়দের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। নতুন এ পানির উৎস থেকে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোর পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয় ও ধর্মগুরুরাও উপকৃত হবেন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করত। বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের পাহাড়ি ঝিরি, ছড়া ও কুয়ার পানির ওপর নির্ভর করতে হতো। দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্কদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো।

শুধু পানির কষ্টই নয়, অপরিশোধিত ও দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগ, পেটের পীড়াসহ নানা ধরনের অসুস্থতায় ভুগতে হয়েছে অনেককে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ত্রিপুরা পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। তাদের উদ্যোগে এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়।

গভীর নলকূপটি চালু হওয়ায় দীর্ঘদিনের পানির সংকট থেকে স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের প্রত্যাশা, নিরাপদ পানির এই ব্যবস্থা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পানি সংগ্রহ করতে দূরের ঝিরি ও কুয়ার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সেই সংকট আরও বেড়ে যেত। নতুন গভীর নলকূপ চালু হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের পানি সংগ্রহের কষ্ট অনেকটাই কমে এসেছে।

স্থানীয়রা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো ধরনের ধর্মীয় পরিচয়কে বিবেচনায় না নিয়ে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসায় তাঁরা ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, মুসলিম কিংবা অমুসলিম—ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; বরং সমাজের প্রকৃত অসচ্ছল, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে দীঘিনালা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। গভীর নলকূপ স্থাপন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা তৈরিতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়।

এ সময় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক মো. ইব্রাহিম খলিল, নাজমুল হাসান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মেকানিক মো. আব্দুল্লাহ খানসহ স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ের দুর্গম জনপদে নিরাপদ পানির সংকট শুধু একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের স্বাস্থ্য, সময়, শ্রম ও জীবনযাত্রার মান। লম্বাছড়ার ২৫টি ত্রিপুরা পরিবারের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সেই সংকটের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতেও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো একইভাবে এগিয়ে আসবে।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: