রবিবার , ১১ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. চট্টগ্রাম
  6. আইন ও অপরাধ
  7. রাজনীতি
  8. পর্যটন
  9. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  10. এক্সক্লুসিভ
  11. অর্থনীতি
  12. এনজিও
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. উন্নয়ন খবর
  15. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  16. খোলা জানালা
  17. কৃষি ও প্রকৃতি
  18. প্রযুক্তি বিশ্ব
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. লাইফ স্টাইল
  21. সাহিত্য
  22. অন্যান্য

ফারুয়ার ডেবাছড়ায় একটি মাত্র বেইলি ব্রিজে ভাগ্য বদলে যাবে ৫ গ্রামের মানুষের

প্রতিবেদক
সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি, রাঙামাটি
অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ণ

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তানালা থেকে রোয়াপাড়া ছড়া যাওয়ার মাঝামাঝি ডেবাছড়া এলাকায় একটি মাত্র স্টিল বা বেইলি/ বেইলি ব্রিজ নির্মাণ হলে ভাগ্য বদলে যেতে পারে পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে কাঠের ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও বর্তমানে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ তক্তানালা থেকে সীমান্ত সড়কে যাওয়ার পথে  রোয়াপাড়া ছড়া যাওয়ার মাঝামাঝি ডেবাছড়া এলাকায় স্থানীয় পাড়াবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাঠের ব্রিজটি বর্তমানে ভেঙে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজের মাঝখানে কচুরিপানা জমে জলাশয়ের মতো সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙা কাঠের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার করছেন। যেকোনো সময় ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কৃষক ভুবনজয় তঞ্চঙ্গ্যা জানান, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ চলাচল করেন। এলাকার অধিকাংশ মানুষের ধান্যজমি ও বাগান ব্রিজের এপার-ওপারে। কিন্তু এ বছর ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে যেতে পারে। বিকল্প কোনো পথও নেই। বলতে গেলে ব্রিজের মাঝখানে  অনেক জায়গা তক্তাগুলো নষ্ট হয়েছে।  কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করতে না পারলে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন। স্থানীয় আরও কয়েকজন পথচারীও একই সমস্যার কথা জানান।

ভারতচন্দ্র কার্বারী জানান, কয়েক বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এখানে কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। কাঠের ব্রিজ দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় প্রতিবছর পাড়াবাসী পরিবার ভিত্তিক চাঁদা তুলে গাছ ও তক্তা কিনে ব্রিজটি মেরামত করে আসছেন। এতে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু এ বছর পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় অনেকের ধান্যজমি, বাগান ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আর্থিক সংকটের কারণে কেউ কেউ টাকা দিতে পারলেও অধিকাংশ পরিবার অর্থ দিতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, এই তক্তা  ব্রিজ দিয়েই এলাকার মানুষ কৃষিপণ্য মূল সড়কে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে রাজস্থলী হয়ে শহরে পরিবহন করেন। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে কলা, ফরাস শিম, বাদাম, আদা, হলুদ, ঝাড়ু ফুলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদেরও এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন যাতায়াতের ভোগান্তিতে শত পরিবারে হাজারো মানুষ।

স্থানীয় মহিলা মেম্বার মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ব্রিজটি তক্তানালা থেকে রোয়াপাড়াছড়া যাওয়ার পথে হলেও ফুঁছড়া, উলুছড়ি, মাইত কুমা পাড়া ও উত্তর পাড়ার মানুষও নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করেন। কোনো কোনো সময় ওরাছড়ি ও ফারুয়া এলাকার মানুষ ও চলাচল করে। পাঁচ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। এছাড়া দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করে। তিনি বলেন, বর্ষাকালে পানি বেড়ে ব্রিজের নিচের অংশ অনেকটা দীঘির মতো হয়ে যায় এবং পারাপারের স্থানে পানির গভীরতাও বেড়ে যায়। ব্রিজ ভেঙে পড়ে কেউ পানিতে পড়ে গেলে সাঁতার না জানলে নিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক কিলোমিটার পথ শ্রমিক দিয়ে মালামাল পরিবহন করাও অত্যন্ত কঠিন। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় এখানে একটি স্টিল বা পাকা  বা বেইলি  ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে সরাসরি যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এর সঙ্গে সংযোগ সড়কেরও বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে পাকা রয়েছে। ফলে স্থায়ী ব্রিজ হলে এলাকার মানুষের ব্যাপক উপকার হবে।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল চেয়ারম্যান বলেন, এই স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে এবং একাধিকবার মেরামতও করা হয়েছে। শুধু পাড়াবাসীই মেরামত করে থাকেন—এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়। তবে স্থানটি দীর্ঘ হওয়ায় এখানে পাকা বা স্টিল ব্রিজ নির্মাণ ব্যয়বহুল। কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। স্থায়ীভাবে পাকা বা স্টিল ব্রিজ নির্মাণ করা গেলে এলাকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। তিনি আরও বলেন, উক্ত স্থানে পাকা বা স্টিল ব্রিজ নির্মাণ করা গেলে পাশাপাশি সীমান্ত সড়কের রোয়াপাড়াছড়া থেকে তক্তানালা দক্ষিণ পাড়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করাও সহজ হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অঃদাঃ) ফরহাদ হোসেন জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ ফুট পর্যন্ত ব্রিজ বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু এখানে প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ ব্রিজ প্রয়োজন। তাই অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে। বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমেও স্টিল ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভি দাশ জানান, প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন হবে এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় সময়ও লাগবে। তবে স্থানীয়ভাবে কাঠের ব্রিজটি মেরামত করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: