দীর্ঘ ৯ বছর পর এক মা ফিরে পেয়েছেন তার হারানো মেয়েকে। মাকে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন মেয়ে রমুজা আক্তার। আর হারানো মেয়েকে ফিরে পেয়ে মা জাহানারা বেগমের চোখেও আনন্দাশ্রু। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আদালত ও পুলিশের আন্তরিকতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
জানা গেছে, গত ২০১৭ সালে স্বামীর বাড়ি থেকে হারিয়ে যান রমুজা আক্তার (৩৯)। ওই সময় মেয়েকে ফিরে পেতে আত্মীয় স্বজন সহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন নিঁখোজ রমুজার মা। কিন্তু মেয়ের কোনো খোঁজ পাননি।
সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালনাধীন রাজশাহী শহরের প্রভা উপজেলার বায়া এলাকার মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফজতীদের নিরাপদ আবাসন (সেফহোম) নিখোঁজের সন্ধায় পায় সিআইডি পরে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌমুহনী থানার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিট্রেট মো: সুমন ভূঁইয়ার আমলী আদালতের মাধ্যমে নিখোঁজ রমুজার সন্ধান পেলে রামগড় থানা পুলিশের সহযোগীতায় মেয়েকে ফিরে পেতে আবেদন করেন মা জাহানারা বেগম। পরে রাজশাহী থেকে এনে মেয়েকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করে রামগড় থানা পুলিশ।
নিখোঁজ রমুজা আক্তার (৩৯) ফটিকছড়ির উপজেলার ভূজপুর থানার দাদমারা ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের কবির আহাম্মদ ও জাহানারা বেগমের মেয়ে।
মা জাহানারা বেগম জানান, ২০০৭ সালে মেয়েকে পাশ্ববর্তী রামগড় থানার বালুখালী গ্রামের মনসুর আলী চকিদারের সাথে বিয়ে দেন। মেয়ের সংসারে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। অভাব অনটন ও পারিবারিক অশান্তির কারণে মেয়ে ২০১৭ সালে হঠাৎ নিখোঁজ হলে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও পাইনি।
এলাকার জনপ্রতিনিধি আবু জাফর চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর পর মা-মেয়ের মিলন দেখে সবাই খুশি হয়েছে। দীঘ ৯ বছর সেফহোমে পরিবার পরিজন ছাড়া মেয়েটি একরকম বাকপ্রতিবন্ধি হয়ে পড়েছে।
রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ নাজির আলম জানান, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানা পুলিশ বাদি হয়ে নিখোঁজের ডায়রী করে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী শহরের মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফজতীদের নিরাপদ আবাসন (সেফহোম) স্থানান্তর করলে দীর্ঘ ৯ বছর সেফহোমে রাখা হয়।
সম্প্রতি সিআইডির পিঙ্গার পিন্টের মাধ্যমে নিখোঁজের পরিচয় সনাক্ত করলে। নিখোঁজের মায়ের আবেদনের পেক্ষিতে রাজশাহী থেকে পুলিশের সহযোগীতায় রামগড় থানায় হসতান্তর করলে। আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভিকটিমকে তার মা ও বোনের কাছে স্থানান্তর করা হয়।


















