বৃহস্পতিবার , ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

রামগড়ে সূর্যমুখী চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

প্রতিবেদক
করিম শাহ, রামগড়, খাগড়াছড়ি
ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪ ৭:২৭ অপরাহ্ণ

 

খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুল চাষ হচ্ছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য বেশ উপযোগী হওয়াতে রামগড় কৃষি অফিসের সহায়তায় সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩ হেক্টর জমিতে এই ফুলের আবাদ করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাকাপ, দাতারাম পাড়া, লাচারীপাড়া ও ফেনীরকুল চর সহ বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিকভাবে ২০ জন কৃষক ২০ বিঘা জমিতে কৃষক প্রণোদনা প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে রামগড় উপজেলাতে প্রাথমিকভাবে মোট ৩ হেক্টর জমিতে এই ফসলের পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে। তবে সূর্যমুখী ফুল থেকে স্থানীয় পর্যায়ে তেল সোধনের ব্যবস্থা করা গেলে সূর্যমুখী চাষাবাদে কৃষকরা আরো উৎসাহী হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম ফয়সাল জানান, সূর্যমুখীর তেল মানব দেহের ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিড নাই এ তেল অন্যান্য সাধারণ তেলের চেয়ে একটু আলাদা। কোলেস্টেরলমুক্ত সূর্যমুখীর তেলে প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি থাকায় এটি আমাদের শরীরের দুর্বলতা কমায় ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রান্নার জন্য সয়াবিন তেলের চেয়ে সূর্যমুখীর তেল দশ গুণ বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ। শরীরের হাড় সুস্থ ও মজবুত করে। সূর্যমুখীর তেল হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগীর জন্যও নিরাপদ, ক্যানসার প্রতিরোধক । দূর করে মানসিক চাপ এবং সূর্যমুখী তেলে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। এককথায় সূর্যমুখী তেল মানবদেহের মহৌষধ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

জাপান প্রেরত প্রবাসী ক্যশাই মার্মা জানান, কৃষি অফিসের প্রণোদনা পেয়ে উৎসাহিত হয়ে এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখির চাষ করেছি । সূর্যমুখী একদিকে মনোমুগ্ধকর অন্যদিকে লাভজনক ফসল। প্রথমবারই ভাল ফলন হয়েছে আগামীতে আরো বেশি পরিমানে আবাদ করার পরিকল্পনা করেছি।

লাচারীপাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা চিং থোয়াই মগ জানান, ধান-পাট চাষে প্রচুর পরিশ্রম এবং খরচ হয় কিন্তু সূর্যমুখী চাষে খরচ কম লাভ বেশি। যে কারণে আগামীতে অনেক কৃষকই সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকবে।

রামগড় উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফ উল্যাহ বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম। এতে সার-ঔষধ কম লাগে। তেমন পরিচর্যাও করতে হয় না। কৃষি অফিসের সার্বিক ত্বাবধানে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রনোদনা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাশেদ চৌধুরী জানান, পুষ্টি চাহিদা পূরণে সূর্যমুখী তেলের জন্য বিদেশ থেকে এর বীজ আমদানি করতে হয়। দেশে এর আবাদ করা গেলে আর আমদানি করা লাগবে না। তিনি বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দুবার সেচ দিতে হয় এ ফসলে। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমির উৎপাদিত বীজ থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ও সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

%d bloggers like this: