শ্রদ্ধেয় মহামান্য চতুর্থ সঙ্গরাজ, সাদা মনের মানুষ ও অনাথপিতা নির্বাণগামী তিলকানন্দ মহাথেরো মহোদয়ের জাতীয় অন্তেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান–২০২৫ এর তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রথম দিনে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মগবান শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গনে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও বিধিবিধান অনুসরণ করে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। সকাল থেকে ভিক্ষুসংঘের অংশগ্রহণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সূত্র পাঠ, প্রার্থনা ও পুণ্যকর্মের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মের চিরাচরিত রীতিনীতি অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে ত্রিরত্ন বন্দনা, পঞ্চশীল গ্রহণ, ধর্মদেশনা ও সূত্র পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ভক্তরা শ্রদ্ধেয় সঙ্গরাজের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি ও নির্বাণলাভ কামনায় সমবেত প্রার্থনায় অংশ নেন।

জাতীয় অন্তেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে শ্রদ্ধেয় ভদন্ত তিলকানন্দ মহাথেরো মহোদয়ের ধর্মীয় জীবন, মানবসেবা ও সমাজকল্যাণে অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ ধর্ম-বিষয়ক সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা যুগ্ম জজ এডভোকেট দিপেন দেওয়ান, এবং রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য বাবু দেবপ্রসাদ দেওয়ান। তাঁরা সবাই প্রয়াত সঙ্গরাজের ধর্মীয় নেতৃত্ব, মানবিকতা ও পার্বত্য অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের বিকাশে তাঁর অনন্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভদন্ত প্রজ্ঞা জ্যোতি মহাথেরো, সভাপতি, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শ্রদ্ধেয় ভদন্ত তিলকানন্দ মহাথেরো মহোদয় ছিলেন ধর্ম, মানবতা ও অহিংসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যাঁর জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করে রাখবে।
এ সময় বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই জাতীয় অন্তেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের পরবর্তী দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রার্থনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


















