রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত নয়জন শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পদোন্নতিপ্রাপ্ত একজন কর্মচারীকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কাপ্তাই সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কাপ্তাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কফিল উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও বাচিকশিল্পী রওশন শরীফ তানি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানস মুকুল চাকমা, কাপ্তাই প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর জিন্নাতুন নাহার এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আঁখি তালুকদার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কাপ্তাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রতন চন্দ্র দাশ বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র দাশ এবং বিএফডিসির স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউসুফ। এসময় কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. কফিল উদ্দিন বলেন, শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষ গড়ার মহান দায়িত্ব। একজন শিক্ষক তাঁর কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কর্মজীবন শেষে অবসরে গেলেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তাঁদের অবদান ও স্মৃতি অমলিন থাকে। শিক্ষকদের নিষ্ঠা, সততা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে যেসব শিক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। একই সঙ্গে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন দায়িত্ব সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ অবসরপ্রাপ্ত নয়জন শিক্ষক এবং পদোন্নতিপ্রাপ্ত একজন কর্মচারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষকরা জ্ঞান ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করে।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষক ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীর সুস্বাস্থ্য, সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং অবসরজীবনের সুখ-শান্তি কামনা করা হয়।


















