মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে প্রাগৈতিহাসিক তীর্থস্থান রাঙামাটির কাপ্তাই সীতাঘাট শ্রীশ্রী মাতা সীতা মন্দিরেণী স্নান উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত সনাতনি সম্প্রদায়ের ভক্তরা ঐতিহাসিক কর্ণফুলি নদীতে স্নান, সীতা মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির, কালি মন্দিরে পুজা দেওয়া এবং মহাপ্রসাদ গ্রহনের মাধ্যমে মা সীতা দেবীর কাছে তাদের মনের বাসনা ব্যক্ত করেছেন। এই উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ সীতা মেলা এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে সীতা মন্দির। ঐতিহাসিক এই মন্দিরে বিভিন্ন নির্দশন ঘুরে ফিরে দেখছেন ভক্তরা।
মহাবারুণী স্নানে রাঙ্গুনিয়ার কুলকুরমাই হতে আসা পুর্ণার্থী শান্ত দে, বাঁশখালি হতে আসা নিতাই আর্চায্য বলেন, ঐতিহাসিক এই পবিত্র তীর্থ স্থানে আসতে পেরে নিজেদেরকে পূর্নবান মনে হচ্ছে। আমরা মা সীতা দেবীর বিভিন্ন নির্দশন ঘুরে ফিরে দেখছি এবং মহাবারুণী স্নানে স্নাত হয়ে পবিত্র হচ্ছি।
চন্দ্রঘোনা মিশন এলাকা হতে আসা পুর্ণার্থী মিরা ভট্টাচার্য বলেন, আজকে এখানে এসে মা সীতা মন্দির দর্শন করলাম এবং বারুনী স্নান করলাম।
চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সৈয়দবাড়ি হতে বারুনী স্নানে আসা দুই বোন মনিষা রাহা ও কাকলি রাহা বলেন, প্রাগৈতিহাসিক সীতাঘাট মন্দিরে এসে মহা বারুনী স্নানে অংশ নিলাম। বিভিন্ন মন্দির দর্শন করলাম।
সীতাঘাট মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমলেন্দু বিকাশ দাশ জানান, ঐতিহাসিক এই সীতা মন্দিরে বিগত ২৫ বছর ধরে ভক্তরা আসছেন। সীতা মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির, কালি মন্দির সহ মা সীতার বিভিন্ন ঐতিহাসিক নির্দশন দেখছেন ভক্তরা।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা: রতন কান্তি বিশ্বাস জানান, এই মন্দিরে মা সীতার অনেক নির্দশন আছে। মা সীতা যে ঘাটে স্নান করেছেন আজ সে ঘাটে ভক্তরা স্নান করেছেন।
মা সীতা মন্দির এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দ পুরি মহারাজ বলেন, এটা সনাতনী সম্প্রদায়ের জন্য একটি পবিত্র তীর্থ স্থান। এখানে মা সীতা মন্দির এর পাশাপাশি দেবাদিদেব এর মন্দির, কালি মন্দির এবং গঙ্গা মন্দির আছে। এই মন্দিরের উন্নয়ন এর জন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
এদিকে মহা বারুনী স্নান উপলক্ষে মন্দির পরিচালনা কমিটির আয়োজনে মন্দির প্রাঙ্গনে এদিন বেলা ১২ টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের ট্রাস্টি পরিমল কান্তি শীল বলেন, ঐতিহাসিক এই মা সীতা দেবী মন্দির সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে অনেক কাজ বাকি আছে। আশা করছি বর্তমান সরকারের পক্ষ হতে ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে আমরা এই মন্দিরের উন্নয়ন করবো।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমলেন্দু বিকাশ দাশ এর সভাপতিত্বে কাপ্তাই প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্তের সঞ্চালনায় এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন , রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ডা: রহমত উল্লাহ, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিকু কুমার দে, রাঙামাটি জেলার আহবায়ক নন্দিতা দাশ, সদস্য সচিব সান্টু চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক রুপক কান্তি মল্লিক, সদস্য পুলক শীল, কাপ্তাই উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কান্তি ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ ধর পিন্টু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সহ সভাপতি অজয় সেন ধনা, কাপ্তাই উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা বাবুল কান্তি দে, হিন্দু কল্যান ট্রাস্টির রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি আশীষ কুমার চৌধুরী, কাপ্তাই উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ভট্টাচার্য, কাপ্তাই উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইব্রাহিম হাবিব মিলু, চট্টগ্রাম গোসাইডাঙ্গা তপোবন শ্রী গুরু মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বিজলী রানী রায়, বিলাইছড়ি হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কাজল কান্তি দে প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা রতন কান্তি বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে গীতাপাঠ করেন বাঙ্গালহালিয়া জ্যোতির্শ্বর বেদান্ত মঠ ও মিশন এর অধ্যক্ষ অভেদানন্দ মহারাজ। এর আগে আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন লগগেইট জয়কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সমীর প্রসাদ ধর।