খাগড়াছড়ি সদর থেকে বহু দূরে পাহাড়ে ঘেরা দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালি ইউনিয়নের বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়া। এমন দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া এখনো চরম দুর্লভ। সামান্য জ্বর, ব্যথা বা সাধারণ অসুস্থতাতেও স্থানীয়দের ভরসা কেবল উপজেলা সদরের হাসপাতাল। কিন্তু দীর্ঘ পাহাড়ি পথ, কষ্টকর ভ্রমণ এবং ব্যয়বহুল যাতায়াত অনেকের পক্ষেই পাড়ি দেওয়া কঠিন। এই চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলার বোয়ালখালি ইউনিয়নের বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়ায় বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে দীঘিনালা সেনা জোনের ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (দি বেবী টাইগার্স)। এতে পাঁচ শতাধিক চাকমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, শিশু, শিক্ষার্থী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন।
দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ওমর ফারুক (পিএসসি) এর নির্দেশনায় দিনব্যাপী চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন মো. শাইকুদ্দিন সাকলাইন। তিনি মনোযোগসহকারে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ ও সামগ্রিক সেবা কার্যক্রম তদারকি করেন। এসময় সেনাবাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাপ্টেন মো. শাইকুদ্দিন সাকলাইন বলেন, “বোয়ালখালি ইউনিয়নের বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়া দীঘিনালার অন্যতম দুর্গম এলাকা। এখানকার মানুষের চিকিৎসা সুবিধা সীমিত। তারা যেন ঘরের কাছেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পায়,সেই লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় হেডম্যান চন্দ্র হংশ রোয়াজা বলেন,”এই এলাকার মানুষের পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর এই ক্যাম্প আমাদের জন্য আশীর্বাদ। একদিনে এত মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়া সত্যিই অনেক বড় পাওয়া। আমরা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
চিকিৎসাসেবা পেয়ে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি প্রকাশ করেন চাঞ্চলতা ত্রিপুরার মতো প্রান্তিক মানুষরা। ৫৫ বছর বয়সী চাঞ্চলতা ত্রিপুরা বলেন, “আমি অনেক দিন ধরে মাথা ও হাত–পায়ে ব্যথা আর হাই প্রেসারে ভুগছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। আজ স্যাররা চিকিৎসা দিলেন, ওষুধ দিলেন। ভগবান স্যারদের মঙ্গল করুক।”
সাত মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন গৃহবধূ লক্ষী চাকমা। তিনি বলেন, “আমার বাচ্চা কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। স্যাররা দেখে ওষুধ দিয়েছেন। আমরা খুবই উপকৃত হলাম।”
মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত স্থানীয় চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সদস্যরা সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত হলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক কমে যাবে এবং দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হতো না।
সেনাবাহিনীর মানবিক এই পদক্ষেপে দুর্গম বভ্রু বাহন হেডম্যান পাড়ার মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।


















