রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত প্রথম জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের রাতে মনোমুগ্ধকর ক্যাম্প ফায়ারিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কাপ্তাইয়ের মনোরম রাইংখ্যং আইল্যান্ডে এ আয়োজন করা হয়। ক্যাম্প ফায়ারকে ঘিরে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা স্কাউট, রোভার ও লিডারদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসময় গান এবং নৃত্যের অপুর্ব দ্যুতনায় স্কাউটদের কণ্ঠে দেশপ্রেম ও মানবতার বার্তা ফুটে ওঠে।
ফানুস উড়িয়ে ক্যাম্প ফায়ারের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঘাঁটি শহীদ মোয়াজ্জেমের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আল আমিন মজুমদার। পরে স্কাউটদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে রাইংখ্যং আইল্যান্ড।
ক্যাম্প ফায়ারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্যাপ্টেন আল আমিন মজুমদার বলেন, “স্কাউটদের দেশপ্রেম, সততা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে গড়ে উঠতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের দেশে দেশপ্রেমিক মানুষের কোনো অভাব নেই।”
বাংলাদেশ স্কাউটসের যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম মুহসিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক মেহেনাজ মুন্নির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আঞ্চলিক উপ কমিশনার (নৌ অঞ্চল) ও কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম।
এ সময় কাপ্তাই ১১ আরই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাজু আহমেদ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কমান্ডার আলিফ উল্লাহ, শহীদ মোয়াজ্জেম ঘাঁটির নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার হামিদুল ইসলামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কাউট, রোভার, লিডার ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে রাইংখ্যং আইল্যান্ডে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী ‘১ম জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প-২০২৬’। এতে দেশের ৬৪ জেলার ২৫০ জন স্কাউট, গার্লস ইন স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্লস ইন রোভার স্কাউট ও অ্যাডাল্ট লিডার অংশ নিচ্ছেন।
ক্যাম্পের লক্ষ্য সম্পর্কে আয়োজকেরা জানান, প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব, দলগত কাজ, আত্মনির্ভরতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতা তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ক্যাম্পে অংশ নেওয়া স্কাউটরা বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই তাঁরা এ ক্যাম্পে অংশ নিয়েছেন। নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও আত্মনির্ভরতার দক্ষতা অর্জনে এই অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


















