মঙ্গলবার , ২২ মার্চ ২০২২ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. জাতীয়
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
  5. পর্যটন
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. রাজনীতি
  8. অর্থনীতি
  9. এনজিও
  10. উন্নয়ন খবর
  11. আইন ও অপরাধ
  12. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী
  13. চাকরির খবর-দরপত্র বিজ্ঞপ্তি
  14. অন্যান্য
  15. কৃষি ও প্রকৃতি
  16. প্রযুক্তি বিশ্ব
  17. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
  18. শিক্ষাঙ্গন
  19. লাইফ স্টাইল
  20. সাহিত্য
  21. খোলা জানালা

বিশ্ব পানি দিবস আজ / হ্রদের দেশে পানির কষ্ট!

প্রতিবেদক
জিয়াউর রহমান জুয়েল, রাঙামাটি
মার্চ ২২, ২০২২ ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

এশিয়ার বৃহত্তম মিষ্টি পানির কৃত্রিম হ্রদ রাঙামাটির ‘কাপ্তাই লেক’। আয়তনে ৭২৫ বর্গকিলোমিটার। জেলা সদরের সাথে ১০ উপজেলার মধে অন্তত ৬টিরই যোগাগের মাধ্যম এই হ্রদ। হ্রদের জলের ওপর চলে জীবিকা নির্বাহ। তবুও হ্রদের দেশে পাহাড়ের মানুষের যেন পানির কষ্টই বেশি!

এমনই এক বাস্তবতায় সারাবিশ্বের মতো আজ বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব পানি দিবস ২০২২’। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘ভূগর্ভস্থ পানি : অদৃশ্য সম্পদ, দৃশ্যমান প্রভাব’।

পাহাড়ে পানির সংকট শুরু হয় শীতমৌসুম থেকেই। ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত এই ছয় মাস চলে কষ্টে। এসময়টাতে ছড়া, ঝর্ণা, কুয়া শুকিয়ে যায়। ফলে বর্ষার আগ পর্যন্ত সংকট থাকে পানীয় জল আর গৃহস্থালীর ধোয়ামোছাসহ রোজকার ব্যবহার্য পানির। আবার বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া গেলেও তা ‘পান ও ব্যবহার’ করা নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। তখন বৃষ্টির জল আর পাহাড়ি ঢলে ঘোলা হয়ে যায় ছড়া-ঝর্ণা-কুয়ার পানি।

শুকনো মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, নলকুপে পানি না আসা ও ঝিরি ঝর্ণা শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সংকট দেখা দেয়। জনবসতি বৃদ্ধি, পাহাড়ধসের কারণে পানির উৎস কমে গেছে। এছাড়া নির্বিচারে বন উজাড় ও বৃক্ষ নিধনের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম ক্রমশ পানির উৎস হারাচ্ছে।

সমতলে পানীয় জলের জন্য ৫০টি বাড়ি নিয়ে একটি নলকুপ স্থাপনের সরকারি নিয়ম থাকলেও পাহাড়ে তা সম্ভব নয়। এখানে ৩০টি বাড়ির প্রয়োজন পড়ে। আবার পাথুরে এলাকা কিংবা মাটির গভীরে পাথর পাওয়া গেলে নলকুপ স্থাপনও সম্ভব হয় না। তাই দুই তৃতীয়াংশ মানুষই প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করে পানি। ভরসা পাহাড়ি ছড়া-ঝর্ণা বা ছোট খালের পাশে তৈরি কুয়ার জল।

রাঙামাটি জেলার আয়তন ৬ হাজার ১১৬.১৩ বর্গ কিলোমিটার। কিন্তু সে অনুপাতে লোকসংখ্যা তুলনামূলক কম; ৬ লাখ ২০ হাজার ২১৪ জন। বিশেষ ভৌগলিক অবস্থার কারণে সমতল জেলার চাইতে ভিন্ন এখানকার ভ’-প্রকৃতি। সমতলে পাড়া-মহল্লায় যেভাবে ঘন বসতিতে মানুষের বসবাস চোখে পড়ে পাহাড়ে তেমন নেই। অনেকটাই বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করেন পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা।

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি। আর রাঙামাটির সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক। ৬০৭ বর্গমাইল সাজেক ইউনিয়নের গ্রামের সংখ্যা ১৫১টি। লোকসংখ্যা ২৫ হাজার ৬৭ জন। এই চিত্রটিই সেখানকার মানুষের বসতি স্থাপনের একটি ধারণা দিতে পারে। তবে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বিশ্বজিত চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব গণনায় অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন সাজেকে। যাদের ৮০ শতাংশই পানির সংকটে ভোগেন শুকনো মৌসুমে। তখন পাহাড়ি ঝিড়ি, ঝরণা শুকিয়ে যায়’।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল রয়েছে পানির সরবরাহ। পাহাড়ি নারীরা ছড়া, ঝর্ণা কিংবা কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করেন। এজন্য প্রতিদিনই ৩/৪ কিলোমিটার খাড়াই পথ হেঁটে দূরে যেতে হয় তাদের।

দিনকে দিন বাড়ছে জনবসতি। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পানির সংকট। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোর মানুষেরাই পড়ছেন পানির ভোগান্তিতে। সংকট এতটাই প্রকট যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সুরাহা করতে সক্ষম হচ্ছে না। জেলার ৫০ শতাংশ মানুষই পানির সংকটে ভুগছেন আর এ সংকটে ভুগছেন পৌর এলাকায় ৭০ শতাংশ মানুষ।

পানি সরবরাহের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ, এডিবি খাতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) আর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি, রাঙামাটি জেলার ১০ উপজেলার ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে পানির সুবিধায় আনা গেছে। যা আগামী ৫ বছরে উন্নীত হবে ৭৫ শতাংশে। আর পৌর এলাকার মাত্র ৩০ শতাংশ জনগোষ্ঠী এসেছে পানি সুবিধার আওতায়। যা শতভাগ হতে ২০৪৫ সালকে টার্গেটে নেয়া হয়েছে।

জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে কাউখালী, বাঘাইছড়ি, বরকল, কাপ্তাই, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও রাজস্থলীতে পানির সংকট বেশি। ফলে পানির জন্য প্রাকৃতিক উৎসের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হয় তাদের। আবার কাপ্তাই হ্রদের সঙ্গে যুক্ত উপজেলাগুলোর মানুষ হ্রদের পানি পান ও ব্যবহার করে থাকে। প্রাকৃতিক এসব পানির উৎস্য থেকে পানি পান করে মানুষ পানিবাহিত নানান রোগে ভুগছেন। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে প্রায়শই।

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার দূর্গম ফটিকছড়ি ইউনিয়নের আয়তন ৭৭ বর্গমাইল। ২৭টি গ্রামে সাড়ে সাত হাজার মানুষের বসবাস সেখানে। অথচ প্রয়োজনীয় সংখ্য নলকুপ নাই। সেখানকার চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা বলেন, ‘মানুষকে ছড়া বা নদীর কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করে পান এবং ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে নানান পানিবাহিত রোগেও ভুগতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। আমরা বিভিন্ন মহলে তদবীর করছি সংকট সমাধানে’।

বরকল আইমাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুবিমল চাকমা বলেন, বরকল পাহাড় আর পাথুরের এলাকা হওয়ায় এখানে পানির সংকট প্রকট। নলকুপ স্থাপন করা দুরুহ হয়ে পড়ে। নদীর পানিও পানের উপযোগী না। ফলে মানুষকে ছড়া বা কুয়ার পানির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। পানি ফুটিয়ে পান করতে অভ্যস্ত নন পাহাড়ের মানুষ। তাই পানিবাহিত রোগেও ভুগতে হয় তাদের’।

রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ‘পাহাড়ে অনেক প্রতিক’লতা আছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো যায় না। তাই কাজ করা সম্ভব হয় না। এখানে শুধু এক ধরণে টেকনোলজি দিয়ে হচ্ছে না। ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী যেখানে যে টেকনোলজি দিয়ে কাভারেজে দেয়া সম্ভব আমরা সেটাই প্রয়োগ করছি’। তাঁর দাবি, ‘নতুন প্রকল্প পাস হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে জেলার ৭৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে পানি সুবিধার আওতায় আনা যাবে’।

৬৪.৭৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের রাঙামাটি পৌরসভার লোকসংখ্যা ৮৪ হাজার ৮০৪ জন। তবে এরমধ্যে পৌর এলাকার মাত্র ৩০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে পানির সুবিধার আওতায় আনা গেছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা। বলেন, ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক(এডিবি) সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এর আলোকে ২০৪৫ সালের মধ্যে রাঙামাটি পৌরসভাকে শতভাগ পানি সুবিধার আওতায় আনা হবে’।

 

সর্বশেষ - আইন ও অপরাধ

%d bloggers like this: