পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতেই মা গঙ্গা দেবীর সম্মানার্থে কাপ্তাই হ্রদে হরেক রকমের ফুল ভাসিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ফুল বিজু উৎসব শুরু হয়েছে। ফুল বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন।
আজ রবিবার সকালে রাঙামাটি শহরের কেরানি পাহাড় সংলগ্ন কাপ্তাই হ্রদে হাজার হাজার কিশোর- কিশোরী, শিশু ও বয়স্ক নারী পুরুষ মিলে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল হ্রদে ভাসিয়ে মা গঙ্গা দেবীর সম্মানে পুঁজা দেন। নতুন নতুন পোশাক পড়ে কিশোর কিশোরীরা মা গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিগত দিনের গ্লানি ও পাপ ধোঁয়া মুছে পেলেন। আগামী দিনে যেন সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন সে কামনা করেন তারা।
সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা হতে ফুল হাতে নিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন ভীড় জমায় কেরানী পাহাড় সংলগ্ন কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসাতে এসে। তারা গঙ্গা দেবীর সম্মানে পুঁজা দিয়ে হ্রদে ফুল ভাসিয়ে দেন। তারা বলছে হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে তাদের অতিতের সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে নতুন বছরে নিজেদের উন্নতি ও বিশ্বের সকল সম্প্রদায়ের জন্য মঙ্গল কামনা করেন। সাথে সাথে তাদের মনের আশা আকাংখা যেন পূর্ণ হয় সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা করেন। শহরের রাজবাড়ী হ্রদ, গর্জনতলী হ্রদ, তবলছড়ি কেরানীর পাহাড় সংলগ্ন হ্রদসহ জেলার ১০উপজেলায় একসাথে ফুল বিজু উদযাপিত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে থেকে মুল বিজু উৎসব শুরু হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী ফুল বিজুর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পাজন তৈরি ও খাবার,জেলা শহরসহ ১০ উপজেলায় ফুল বিজু উৎসব ঘিরে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের উপজাতিয় সামাজিক অনুষ্ঠানমালা পালিত হয়েছে। এই তিন দিন আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাদের ফুল বিজু ও মুল বিজু। তারা যার যার নিজস্ব বর্ণ ধর্মমতে পালন করছে ফুল বিজু অনুষ্ঠান। আগামী কাল ১৪এপ্রিল পহেলা বৈশাখের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিজুর আনুষ্ঠানিকতা।


















