খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়িতে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার লক্ষ্যে সেনা জোনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার দুপুরে (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) মহালছড়ি সেনা জোনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ। সভায় সাব-জোন কমান্ডার সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, উপজেলার সকল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মহালছড়ি উপজেলায় চাঁদাবাজির বিদ্যমান ধরন, এর ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি এবং ব্যবসা পরিচালনায় সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা চাঁদাবাজি বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং এ বিষয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সম্ভাব্য কৌশল ও যৌথ কর্মপন্থা নির্ধারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়াও দোকানদারদের দ্বারা দোকান সংলগ্ন ফুটপাত দখলের সমস্যা, যার ফলে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি সহ অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীদের দ্বারা চেঙ্গী নদীতে অবৈধভাবে জাঁক দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপিত হয়। বিশেষ করে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও মাছের প্রজননের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। বাজার এলাকায় যানজট নিরসন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
উপস্থিত বক্তারা বলেন, সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মহালছড়িতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।
সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে মহালছড়িতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ব্যবসা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যার বিষয়েও অংশগ্রহণকারীরা মতামত প্রদান করেন।
সমাপনী বক্তব্যে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ মহালছড়িতে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল পক্ষকে আরও আন্তরিক, দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।


















