রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে দেয়া রাজসিক সংবর্ধনার জবাবে উপস্থিত সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন আমার দায়িত্ববোধকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ থেকে সকল প্রকার বৈষম্য দুর করে পাহাড়ী বাঙ্গালী সকলের উন্নয়নের জন্য কাজ করবো। বৈষম্য ও দূর্নীতিমুক্ত পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। রাঙামাটির সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সুষম উন্নয়ন, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। সকলের সহযোগিতায় রাঙামাটিকে একটি আধুনিক ও মডেল জেলায় পরিণত করার জন্য কাজ করবো। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত রেইনবো নেশন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

গত ২০ আগষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের এক প্রঞ্জাপনমুলে দীপন তালুকদার দীপুকে চেয়ারম্যান করে পনের সদস্য বিশিষ্ট রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তবর্তিকালীন পরিষদ পূর্নগঠন করা হয়।
তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার(২৭ আগষ্ট) দুপুরে ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি আসার পথে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়ার বারার বাগান এলাকা শুরু হওয়া রাঙ্গামাটি জেলা শহর পর্যন্ত আসার সময় পথে পথে থেকে দেয়া রাজসিক সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরোক্ত কথা বলেন।

রাঙামাটিতে আগমন উপলক্ষে পথে পথে তাকে রাজসিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সড়কপথে রাঙামাটি জেলায় প্রবেশ করলে শত শত জনতা, বিএনপি ও অংগসংঠনের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি তাকে উষ্ণ ও ফুলেল অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন।
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের বেতবুনিয়া, রানীরহাট, কাউখালী ও ঘাগড়াসহ জেলার প্রবেশমুখগুলোতে সকাল থেকেই অপেক্ষমাণ ছিলেন শত শত মানুষ। চেয়ারম্যানের গাড়িবহর এসব এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্লোগান ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ফুল ছিটিয়ে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
এই আগমন উপলক্ষে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বর্ণাঢ্য তোরণ নির্মাণ করা হয় এবং ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। শত শত মোটরসাইকেল ও সুসজ্জিত গাড়ির এক বিশাল মোটর শোভাযাত্রা তাকে এসকর্ট করে রাঙামাটি শহরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। শোভাযাত্রাটি বেতবুনিয়া থেকে শুরু হয়ে সুগারমিল,রানীর হাট,ঘাগড়া,শহরের কলেজ গেইট,বনরূপা, কাঁঠালতলী, তবলছড়ি ও রিজার্ভ বাজারসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি জেলা বিএনপির অফিসে এসে শেষ হয়। এ সময় সড়কের দু’পাশে উৎসুক জনতার ঢল নামে এবং অনেকেই হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানান।
এরপর সেখান থেকে বিকেল তিনটায় তিনি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে পৌছলে সেখানে পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন। পাহাড়ি ও বাঙালি জনসাধারণের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি এক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়।


















